Headlines News :
Home » » আদালতের নির্দেশ কার্যকর হয়নি : ইলিয়াস আলীকে ৬ মাসেও হাজির করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আদালতের নির্দেশ কার্যকর হয়নি : ইলিয়াস আলীকে ৬ মাসেও হাজির করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

Written By Unknown on Monday, October 15, 2012 | 3:35 PM


নাছির উদ্দিন শোয়েব

আদালতের নির্দেশের ছয় মাস পরও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে হাজির করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইলিয়াস আলী গুমের পর তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা আদালতে একটি রিট করেন। আদালত ১০ দিনের মধ্যে ইলিয়াস আলীকে হাজির করতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, ডিবি, এসবি, সিআইডি ও গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেয়ার পর দীর্ঘদিনেও তা কার্যকর হয়নি। ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে র্যাব-পুলিশ ও গোয়েন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইলিয়াস আলী গুম তদন্তের একচুলও অগ্রগতি নেই। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪৮ ঘণ্টা অন্তর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না পুলিশ। এক কথায়, ইলিয়াস আলী গুমের তদন্তে একচুলও অগ্রগতি নেই। বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করায় অবরুদ্ধ পরিবারটির সঙ্গে ভয়ে ঘনিষ্ঠজনরাও দেখা করতে আসছেন না। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম অসহযোগিতায় হতাশ হয়ে পড়ছেন ইলিয়াসসের স্ত্রী-সন্তানরা।
ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর জানান, ছয় মাস পার হলো এখনও তার স্বামীর খোঁজ মেলেনি। এমনকি তার ব্যাপারে একটি সঠিক তথ্যও পাওয়া যায়নি। তিনি বেঁচে আছেন কি-না তা নিশ্চিত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও তত্পরতা নেই। র্যাব-পুলিশ এ মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে মুখ খুলতে চাচ্ছে না। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেন কোনো আগ্রহ নেই। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা রয়েছে চরম উত্কণ্ঠায়।
গতকাল ইলিয়াসের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাসার গেটে চারটি সিসি ক্যামেরা এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, বাসার সামনে কেউ গেলেই ক্যামেরায় তার ছবি উঠবে। ক্যামেরাগুলো কেন বসানো হয়েছে এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ইলিয়াস আলীর পরিবারের নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরাগুলো লাগানো হয়েছে। ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে আবরার বলেন, পুলিশ নিয়মিত বাসায় এসে ক্যামেরা মনিটরিং করে আবার চলে যায়।
অপর দিকে পরিবারের সদস্যদের দাবি, সিসি ক্যামেরাগুলো বসানোর পর থেকে পুলিশি আতঙ্কে আত্মীয়স্বজনরাও আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে তারা আত্মীয়স্বজন থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। আবরার ইলিয়াস বলেন, এখন সারাদিন বাসায় থাকি। কোথাও বের হই না ভয়ে। এক কথায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। কখন কী হয়ে যায় এই ভয় কাজ করে। বাবা নেই, তাকে আর ফিরে পাব কি-না জানি না। এ অবস্থায় আমাদের কোনো কিছু হয়ে গেলে কার কাছে যাব। আবরার ইলিয়াস বলেন, আমাদের অবস্থা তো বুঝতেই পারেন, কী অবস্থায় দিন কেটে যাচ্ছে। বাড়িতে আসা-যাওয়া লোকজনকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। বনানী থানা পুলিশ বাসায় গিয়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে।
ইলিয়াসের ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের পর বিরোধী দলের আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তার মোবাইল থেকে সিলেটের এক স্থানীয় বিএনপি নেতার মোবাইলে মিসকল আসে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়টিও তদন্ত করেনি। গুম হওয়া ইলিয়াস আলীর মোবাইল সিমটি তাহলে কে ব্যবহার করছে। কোথা থেকে মিস কল এলো সে রহস্যও জানা যায়নি। ঘটনার পর র্যাব ও পুলিশ রূপসী বাংলা হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরার ধারণকৃত কিছু দৃশ্য পর্যবেক্ষণ এবং ৪০-৪৫ জন বিএনপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা ছাড়া আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ইলিয়াস আলী গুমের পর গত ১৯ এপ্রিল বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীকে অবৈধভাবে আটক করা হয়নি, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে ১০ দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এসবি/বিশেষ শাখা), পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপরাধ তদন্ত বিভাগ/সিআইডি), ঢাকা জেলা প্রশাসক, র্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার (ডিবি), বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ আদেশ দেয়ার আগে ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করতে পুলিশের আইজিকে স্বপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ আদেশ দেয়। আদালতের এ আদেশের পরও ইলিয়াস আলীকে আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ব্যাপারে গতকাল বনানী থানার ওসি ও র্যাব-১-এর এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ইলিয়াস আলীর ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ এপ্রিল রাতে বনানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলী গুম হন। এরপর থেকে তারা দু’জন নিখোঁজ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী মধ্যরাতে ইলিয়াস আলীকে সাউথ পয়েন্ট স্কুল ও নির্মাণাধীন নূরানী টাওয়ারের মাঝামাঝি স্থান থেকে সাদা পোশাকধারী লোকজন অস্ত্র ঠেকিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে ইলিয়াস আলীর ব্যবহৃত গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইলিয়াস আলীকে প্রথমে উদ্ধারে ঢিলেঢালা চেষ্টা চালালেও পরে সে উদ্ধার তত্পরতায় ভাটা পড়ে।
Share this article :

0 comments:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

Recent Post

Popular Posts

 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Proudly powered by Blogger
Copyright © 2011. Taj News Sylhet - All Rights Reserved
Template Design by Creating Website Published by Mas Template